কুরআনুল কারিমের তাৎপর্য
কুরআনুল কারিমের তাৎপর্য
--------------------------------------
♦️কুরআনকে যদি প্রশ্ন করি তোমার নাম কি? আল্লাহর কুরআন তাঁর নিজ থেকেই জবাব দিয়ে দেবে।
সুরা বুরুজ - 85:21
بَلۡ ہُوَ قُرۡاٰنٌ مَّجِیۡدٌ ﴿ۙ۲۱
বরং তা সম্মানিত কুরআন।
(সম্মানিত কিতাব)
সুরা বুরুজ - 85:22
فِیۡ لَوۡحٍ مَّحۡفُوۡظٍ ﴿٪۲۲﴾
সুরক্ষিত ফলকে (লিপিবদ্ধ রয়েছে)।
সুরা আর রহমান - 55:1
اَلرَّحۡمٰنُ ۙ﴿۱﴾
পরম করুণাময়,
সুরা আর রহমান - 55:2
عَلَّمَ الۡقُرۡاٰنَ ؕ﴿۲﴾
তিনি শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন,
♦️কুরআনের লক্বব ৪টি
১. কুরআনুল কারীম
২. কুরআনুম মাজীদ
৩. কুরআনুল হাকিম
৪. কুরআনুল আজীম
♦️কুরআন তুমি কেনো এসেছো?
সুরা ইবরাহিম - 14:1
الٓرٰ ۟ کِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰہُ اِلَیۡکَ لِتُخۡرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوۡرِ ۬ۙ بِاِذۡنِ رَبِّہِمۡ اِلٰی صِرَاطِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَمِیۡدِ ۙ﴿۱﴾
আলিফ-লাম-রা; এই কিতাব, যা আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তুমি মানুষকে তাদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আন, পরাক্রমশালী সর্বপ্রশংসিতের পথের দিকে।
♦️তোমার বক্তব্য কি?
সুরা আল ইমরান - 3:102
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ حَقَّ تُقٰتِہٖ وَ لَا تَمُوۡتُنَّ اِلَّا وَ اَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ ﴿۱۰۲﴾
Bengali - Bayaan Foundation
হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যথাযথ ভয়। আর তোমরা মুসলমান হওয়া ছাড়া মারা যেও না।
সুরা আল ইমরান - 3:103
وَ اعۡتَصِمُوۡا بِحَبۡلِ اللّٰہِ جَمِیۡعًا وَّ لَا تَفَرَّقُوۡا ۪
وَ اذۡکُرُوۡا نِعۡمَتَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ اِذۡ کُنۡتُمۡ اَعۡدَآءً فَاَلَّفَ بَیۡنَ قُلُوۡبِکُمۡ فَاَصۡبَحۡتُمۡ بِنِعۡمَتِہٖۤ اِخۡوَانًا ۚ وَ کُنۡتُمۡ عَلٰی شَفَا حُفۡرَۃٍ مِّنَ النَّارِ فَاَنۡقَذَکُمۡ مِّنۡہَا ؕ کَذٰلِکَ یُبَیِّنُ اللّٰہُ لَکُمۡ اٰیٰتِہٖ لَعَلَّکُمۡ تَہۡتَدُوۡنَ ﴿۱۰۳﴾
আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং বিভক্ত হয়ো না।
আর তোমরা তোমাদের উপর আল্লাহর নিয়ামতকে স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পরে শত্রু ছিলে। তারপর আল্লাহ তোমাদের অন্তরে ভালবাসার সঞ্চার করেছেন। অতঃপর তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই-ভাই হয়ে গেল। আর তোমরা ছিলে আগুনের গর্তের কিনারায়, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করেছেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ বয়ান করেন, যাতে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও।
🔻তাফসীর
তোমরা মতভেদ সৃষ্টি করো না এবং পৃথক পৃথক হয়ে যেয়ো না।
সহীহ মুসলিমে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা ৩টি কাজে সন্তুষ্ট হন এবং ৩টি কাজে অসন্তুষ্ট হন।
🔻যে তিনটি কাজে তিনি সন্তুষ্ট হন তার মধ্যে,
১. একটি এই যে, তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং তার সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করবে না।
২. দ্বিতীয় হচ্ছে এই যে, তোমরা একতাবদ্ধ হয়ে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ করবে এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে না।
৩. তৃতীয় হচ্ছে এই যে, তোমরা মুসলমান বাদশাহদের সহায়তা করবে।
🔻আর যে তিনটি কাজ তাঁর অসন্তুষ্টির কারণ তার মধ্যে,
১. একটি হচ্ছে বাজে ও অনর্থক কথা বলা,
২. দ্বিতীয়টি হচ্ছে অত্যাধিক প্রশ্ন করা। ↙️
সুরা আল ফুরক্বন - 25:63
وَ عِبَادُ الرَّحۡمٰنِ الَّذِیۡنَ یَمۡشُوۡنَ عَلَی الۡاَرۡضِ ہَوۡنًا
وَّ اِذَا خَاطَبَہُمُ الۡجٰہِلُوۡنَ قَالُوۡا سَلٰمًا ﴿۶۳﴾
আর রহমানের বান্দা তারাই যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে
এবং অজ্ঞ লোকেরা যখন তাদেরকে সম্বোধন করে তখন তারা বলে ‘সালাম’।
৩. এবং তৃতীয়টি হচ্ছে সম্পদ ধ্বংস করা।'
বহু হাদীস এমন রয়েছে যেগুলোর মধ্যে বর্ণিত হয়েছে যে, একতার সময় মানুষ ভুল ও অন্যায় হতে রক্ষা পায়। আবার বহু হাদীসে মতানৈক্য হতে ভয় প্রদর্শন করা হয়েছে কিন্তু এতদসত্ত্বেও উম্মতের মধ্যে মতভেদ ও অনৈক্যের সৃষ্টি হয়ে গেছে এবং তাদের মধ্যে ৭৩টি দল হয়ে গেছে, যাদের মধ্যে একটি দল মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ লাভ করবে এবং জাহান্নামের আগুনের শাস্তি হতে রক্ষা পেয়ে যাবে।
এরা ঐসব যারা এমন জিনিসের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে যার উপর স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সঃ) ও তাঁর সাহাবীগণ ছিলেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা স্বীয় বান্দাদেরকে তাঁর নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। অজ্ঞতার যুগে।
আউস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয়ের মধ্যে বড়ই যুদ্ধ-বিগ্রহ ও কঠিন শত্রুতা ছিল। পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ প্রায় লেগেই থাকতো। অতঃপর যখন গোত্রদ্বয় ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয় তখন মহান আল্লাহর অনুগ্রহে তারা পূর্বের সব কিছু ভুলে গিয়ে সব এক হয়ে যায়। হিংসা বিদ্বেষ বিদায় নেয় এবং তারা পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যায়। তারা পুণ্যের কাজে একে অপরের সহায়ক হয় এবং আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তারা পরস্পর একতাবদ্ধ হয়ে যায়।
🎵 আমাদের প্রভু এক, এক নবীর উম্মত।
---------
আমাদের প্রভু এক,
এক নবীর উম্মত।
জীবন বিধান এক,
ঐশী বাণী কুরআন।
তবে কেনো এক নও, হে মুসলমান,
এক হও এক হও, করি আহ্বান,
বাইতুল্লাহ এক,
মদীনা শরীফ এক।
উহুদ পাহাড় এক,
বদরের মাঠ এক। (২)
“একটাতো জীবন আর,
মরণতো একটাই”
সকলের তরে আছে,
একটাই প্রাণ।
------------------
♦️তোমার কথা না শুনলে কি ক্ষতি হবে?
সুরা আল মুলক - 67:10
وَ قَالُوۡا لَوۡ کُنَّا نَسۡمَعُ اَوۡ نَعۡقِلُ مَا کُنَّا فِیۡۤ اَصۡحٰبِ السَّعِیۡرِ ﴿۱۰﴾
Bengali - Bayaan Foundation
আর তারা বলবে, ‘যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের মধ্যে থাকতাম না’।
সুরা আল মুলক - 67:11
فَاعۡتَرَفُوۡا بِذَنۡۢبِہِمۡ ۚ فَسُحۡقًا لِّاَصۡحٰبِ السَّعِیۡرِ ﴿۱۱﴾
Bengali - Bayaan Foundation
অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। অতএব ধ্বংস জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের জন্য।
♦️তোমার কথা শুনলে কি লাভ হবে?
সুরা আল মু’মিনুন - 23:11
الَّذِیۡنَ یَرِثُوۡنَ الۡفِرۡدَوۡسَ ؕ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ﴿۱۱﴾
Bengali - Bayaan Foundation
যারা ফিরদাউসের অধিকারী হবে। তারা সেখানে স্থায়ী হবে।
♦️তোমার সাথে সম্পর্ক রাখবো কিভাবে?
সুরা আল ওয়াকিয়াহ - 56:79
لَّا یَمَسُّہٗۤ اِلَّا الۡمُطَہَّرُوۡنَ ﴿ؕ۷۹﴾
Bengali - Bayaan Foundation
কেউ তা স্পর্শ করবে না পবিত্রগণ ছাড়া।
♦️তোমার সাথে সম্পর্ক রাখলে কি হবে?
সুরা আল ইনশিরাহ - 94:4
وَ رَفَعۡنَا لَکَ ذِکۡرَکَ ؕ﴿۴﴾
Bengali - Bayaan Foundation
আর আমি তোমার (মর্যাদার) জন্য তোমার স্মরণকে সমুন্নত করেছি।
♦️তোমার সাথে সম্পর্ক রাখলে কি পাবো?
সুরা আদ দুহা - 93:5
وَ لَسَوۡفَ یُعۡطِیۡکَ رَبُّکَ فَتَرۡضٰی ؕ﴿۵﴾
Bengali - Bayaan Foundation
আর অচিরেই তোমার রব তোমাকে দান করবেন, ফলে তুমি সন্তুষ্ট হবে।
♦️কিন্তু সর্বশেষ কথা হচ্ছে,
সুরা আল কিয়ামাহ - 75:31
فَلَا صَدَّقَ وَ لَا صَلّٰی ﴿ۙ۳۱﴾
Bengali - Bayaan Foundation
সুতরাং সে বিশ্বাসও করেনি এবং সালাতও আদায় করেনি।
🔻শয়তানের মূল মিশন দুইটা
১. মানুষকে কুরআন থেকে দূরে রাখা।
২. সালাত থেকে দূরে রাখা।